জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ:
টেকনাফে বঙ্গোপসাগরের উপকুলে সৃজিত ঝাউগাছ প্রতিনিয়ত কেটে ফেলা হচ্ছে। সাগর সুরক্ষায় সৃজিত এই ঝাউবন দিন দিন উজাড় হয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও খামখেয়ালীপনায় ঝাউবন নিধান হচ্ছে বলে স্থানীয় সুত্র জানিয়েছে। দুষ্ট চক্রের কবল থেকে রক্ষা করা না গেলে উপকুলের এই ঝাউবন অল্প সময়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। উপকুল রক্ষায় সাগরপাড়ে সৃজিত এই ঝাউবন সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরী বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পরিবেশবাদীদের মতে, ঝাউবন রক্ষায় দ্রুত সময়ে পদক্ষেপ না নিলে সাগরপাড়ের সবুজ বনায়ন অচিরেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এতে পরিবেশ প্রতিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি সাগরপাড়ের ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিতে পারে।
সরেজমিনে পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সাথে কথা জানাগেছে,শাহপরীর দ্বীপ উপকুলীয় বনবিটের আওতাধীন সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিষ্ট জোনের পশ্চিম পাশের্^ বঙ্গোপসাগরের উপকুলে সৃজিত ঝাউবন স্থানীয় লোকেরা দিনদুপুরে কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বেশীর ভাগই রাতের আঁধারে এবং বৃষ্টি বাদলের দিনে ঝাউগাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয় জেলেদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এর আগেও পাশাপাশি সৃজিত ঝাউবন একেবারে উজাড় করা হলে। সে সময়ে প্রশাসনিক নজরদারী ও কঠোরতার কারণে শাহপরীর দ্বীপ উপকুলীয় বনবিটের আওতাধীন কাটাবনিয়া অংশের ঝাউবন রক্ষা পায়। সময়ের আবর্তে এবার নতুন করে স্থানীয় কিছু লোকজন কাটাবনিয়া অংশের সেই ঝাউগাছ নিধনে নেমেছেন। কিছু অসাধু লোক, রাতে বা বৃষ্টিতে; সুযোগ পেলে দিনেও কেটে লাকড়ী বানিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন রাখাল হাবিবুল্লাহসহ অনেকে।
উপকুলীয় বন বিভাগ সুত্র জানায়, ২০১৫-২০১৬ সনে শাহপরীর দ্বীপ বনবিটের আওতায় এক্সক্লুসিভ ট্যুরিষ্টজোনের পশ্চিম পাশে বঙ্গোপসাগরের উপকুলে ১০একর বনায়ন সৃজন করা হয়। বনায়ন সৃজনের পরপরই বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) বনবিভাগ এক্সক্লুসিভ ট্যুরিষ্ট জোনের জন্য ৮৮৪একর জমি হস্তান্তর করেন। হস্তান্তরকৃত উল্লেখিত জমির আওতায় পড়েছে উপকুলীয় এই বন। সেই থেকে বনবিভাগের সৃজিত বনায়ন তথা সাগরপাড়ের ঝাউবন বেজার অধীনে রয়েছে বলে উপকুলীয় বন বিভাগের লোকজন জানিয়েছেন।
ইংরেজি দৈনিক বয়েস সেভেন এবং ডেইলি বাংলা পোষ্টের টেকনাফ সংবাদদাতা ও উন্নয়নকর্মী ফরিদুল আলম জানান, যে রোড় দিয়ে সাংবাদিকসহ সব ধরণের লোকজনের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ। সব ধরণের যান চলাচল অবৈধ। সুরক্ষিত গেইট ও গার্ড পোষ্ট বসিয়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কিন্তু ওই সড়কের পাশে সাগরপাড়ে সৃজিত সবুজ ঝাউবন দিনদুপুরে কেটে নিয়ে যাবে তা কিভাবে সম্ভব? সড়ক নিয়ন্ত্রণ করলে; সাগরপাড় রক্ষায় সৃজিত ঝাউগাছও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ঝাউবন নিধনে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিষ্টজোন কর্তৃপক্ষকে দ্বায়ী করে এই সংবাদকর্মী আরো জানান, দ্রুত সময়ে সাগরপাড়ের ঝাউবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
টেকনাফ উপকুলীয় বনরেঞ্জ কর্মকর্তা বশির আহমদ খাঁন জানান, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তরকৃত জমিতেই উপকুলীয় এই বন। উপকুলীয় বনবিভাগ ২০১৫-২০১৬ সনে ঝাউবনটি সৃজন করেন। এক্সক্লুসিভ ট্যুরিষ্ট জোন হওয়ার পরপরই সাগরপাড়ে সৃজিত ওই বন টোটালি বেজার আন্ডারে চলে গেছে। তারা ট্যুরিষ্টজোনের পাশ দিয়ে ঝাউবনের সামনা-সামনি সড়কও নির্মাণ করেছেন। সড়কের প্রবেশ মুখে পোষ্ট স্থাপন করে সিকিউরিটি গার্ডের মাধ্যমে বেজার লোকজন সারাক্ষণ গেইট নিয়ন্ত্রণ করছেন। ঝাউবনের সামনে দিয়ে নির্মিত সড়ক এলাকাকে তারা সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সেখানে উপকুলীয় বন বিভাগ বা বাহিরের কেউ প্রবেশ করতে পারেননা নিশ্চিত করে এই রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, ঝাউবন সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বেজা তথা এক্সক্লুসিভ ট্যুরিষ্টজোন কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। এ বিষয়ে জানতে উপকুলীয় বনভিাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম এ হাসানের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করা হয়। তবে যোগাযোগ স্থাপন করতে না পারায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে পরিবশেবাদী সংগঠন ও স্থানীয় সচেতন মহল জরুরী ভিত্তিতে পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষায় সাগরপাড়ের ঝাউবনকে নিধনের হাত থেকে বাঁচাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।
